কক্সবাজার, শুক্রবার, ১২ আগস্ট ২০২২

শিরোনাম

কক্সবাজারে ”হেল্প দ্যা পিউপল বাংলাদেশ এইসটিপিবির” উদ্যোগে বৃক্ষ রোপন কর্মসূ‌চি পা‌লিত


প্রকাশের সময় :২০ জুন, ২০২২ ২:২৫ : পূর্বাহ্ণ

ইফতেখারুল ইসলাম জুয়েল

পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন ও টেকসই উন্নয়ন এজেন্ডা ২০৩০ লক্ষ্য অর্জনে অংশীদারত্বে” হেল্প দ্যা পিউপল বাংলাদেশ এইসটিপিবি ”এনজিও এর উদ্যাগে কক্সবাজার পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে বৃক্ষরোপন কর্মসূচী পালিত হয়। ১৯ জুন, রবিবার বিকেলে ইনস্টিটিউট এর ক্যাম্পাসে এই কর্মসূচী পালন করা হয়।

বনায়ন ধ্বংস, খাল -নদী দখল করে দালান তৈরী ,পাহাড় কেটে দিনের পর দিন নিধন হচ্ছে সবুজ বনায়ন, সম্পূর্ণ ইকো সিস্টেম ধ্বংস হচ্ছে। এটির পুনরুদ্দারের একমাত্র সমাধান গাছপালা ও ইকো সিস্টেম বৃদ্ধি করতে হবে। বাড়ছে মানুষ, বাড়ছে কার্বন-ডাই-অক্সাইড, ধ্বংস করা হচ্ছে বন, কাটা হচ্ছে গাছ, অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে নতুন প্রজন্মের ভবিষ্যৎ।

এমনই এক পরিস্থিতি যখন ভাবিয়ে তুলছে বিবেকবানদের, ঠিক তখনই, ফল বৃক্ষে ভরব দেশ, বদলে দেব বাংলাদেশ, দেশের বায়ু দেশের মাটি, গাছ লাগিয়ে করবো খাঁ‌টি চ্ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে ”হেল্প দ্যা পিউপিল বাংলাদেশ এইসটিপিবির উদ্যোগে আয়োজিত বৃক্ষরোপন কর্মসূচী পালিত হয়। কর্মসূচীতে অ‌তি‌থি হি‌সে‌বে উপ‌স্থিত ছিলেন কক্সবাজার পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ( ভারপ্রাপ্ত) মৌহসীনুর রহমান, এইসটিপিবির সমন্বয় ডিভিশনের ইন্সপেকশন এক্সিকিউটিভ শফিকুল ইসলাম ইমন, ব্যবস্থাপনা ডিভিশনের মিটিং এক্সিকিউটিভ আল আমিন রাফিন,জেনারেল ডিভিশনের ক্যাম্পেইন এক্সিকিউটিভ মোহাম্মদ আরফাত ও রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্ব, ছাত্র -ছাত্রী এবং শিক্ষকমন্ডলী সহ প্রমূখ। ।

প্রধান অতিথি এক‌টি গা‌ছের চারা লা‌গি‌ঁয়ে কর্মসূ‌চি উ‌দ্ধোন ক‌রেন। তি‌নি সকল‌কে বৃক্ষ‌রোপনের পাশাপা‌শি নিজ ‌নিজ বা‌ড়ির আ‌ঙ্গিনায় ১ টি ক‌রে চারা গাছ লা‌গি‌য়ে জলবায়ু প‌রিবর্ত‌নের চ্যা‌লেঞ্জ মোকা‌বেলার আহবান জানান। প্রাকৃতিক ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণের ভূমিকা যেমন ব্যাপক ও সুদূরপ্রসারী, তেমনি অর্থনৈতিক উন্নয়নেও এর গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিবেশের ভারসাম্য ও সুষম জলবায়ুর প্রয়োজনে একটি দেশের মোট আয়তনের অন্ত ২৫ শতাংশ বনভূমি থাকা আবশ্যক।

বৃক্ষহীনতার কারণে পৃথিবীর নতুন নতুন অঞ্চল মরুময় হয়ে পড়ছে। বিশ্বব্যাংকের মতে, বনের ওপর নির্ভরশীল বিশ্বের প্রায় ৫০ মিলিয়ন মানবজীবন সমস্যায় পড়তে পারে আগামী শতকের মাঝামাঝিতে। তিন দশমিক পাঁচ বিলিয়ন কিউবিক মিটার কাঠ ব্যবহার করে প্রতিবছর আট হাজার বর্গহেক্টর বনভূমি ধ্বংস করছে পৃথিবীর মানুষ। বনভূমি ধ্বংস হওয়ার ফলে পৃথিবীর উত্তর-দক্ষিণ এবং পূর্ব-পশ্চিমের বহু বন্যপ্রাণী ও সামুদ্রিক প্রাণী বিলুপ্ত হয়েছে। এশিয়া, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকার বিস্তৃত এলাকার মরুময়তা রোধে ২০ হাজার হেক্টর ভূমিতে বনায়ন-বৃক্ষায়ন করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশে প্রয়োজনের তুলনায় বনভূমি খুব কম। তদুপরি জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে বনভূমি কাটার মাত্রাও ক্রমে বেড়ে যাচ্ছে। প্রকৃতির ভারসাম্য ঠিক রাখার জন্য কোনো দেশের মোট ভূমির ২৫ শতাংশ বনভূমি থাকা উচিত। প্রাপ্ত তথ্য মতে, ১৯৪৭ সালে দেশের আয়তনের ২৪ শতাংশ বনভূমি ছিল। ১৯৮০-৮১ সালে তা কমে হয় ১৭ দশমিক ২২ শতাংশ এবং বর্তমানে মাত্র ১৭ দশমিক পাঁচ শতাংশ বনভূমি রয়েছে। এ আশঙ্কাজনক ঘাটতির কারণ ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার বিবিধ প্রয়োজন মেটানো। এর মধ্যে কৃষিজমির সম্প্রসারণ, বসতবাড়ি স্থাপন, শিল্পে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার, গৃহনির্মাণসামগ্রী ও আসবাবপত্রের ব্যবহার, রাস্তা, বাঁধসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ, জ্বালানি হিসেবে ব্যাপক ব্যবহার, নগরায়ন ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

উল্লিখিত কারণগুলোর মধ্যে জ্বালানি হিসেবে বনজসম্পদের ব্যবহার ৯৫ শতাংশ দায়ভার বহন করে। এ ছাড়া নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড় ও সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস বৃক্ষের ব্যাপক ক্ষতি করে। অদূর-ভবিষ্যতে সাধারণ প্রয়োজনে বৃক্ষসংকট এক প্রকট সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে। ধ্বংসপ্রাপ্ত বনাঞ্চল এবং বৃক্ষরোপণ: বনভূমি দ্রুত কমে আসায় সারা বিশ্বের জনগণের সচেতনতার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের সরকার ও সচেতন জনগণ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে এগিয়ে এসেছে।

বাংলাদেশের বৃক্ষহীনতায় নিচের দূষণগুলো ঘটছে। গ্রিন হাউস ইফেক্ট: গ্রিন হাউস অর্থ হলো, সবুজ ঘর। মূলত এটা একটা কাচের ঘর, যার মধ্যে তাপ সংরক্ষণ করে সবুজ গাছপালা জন্মানো হয়। বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে তাপ অপরিবাহী গ্যাসের আবেষ্টনীর জন্য সূর্য থেকে প্রাপ্ত তাপ ধরে রাখার মতো গ্যাসীয় আবরণ সৃষ্টি হয়েছে। এ গ্যাসীয় আবরণ গ্রিন হাউসের কাচের মতো কাজ করে। এ তাপ ধারণ অবস্থা যখন নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করে তখন তা জীবকুলের জন্য বিপজ্জনক হয়ে পড়ে।

ট্যাগ :