কক্সবাজার, শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১

শিরোনাম

অবশেষে দুদক কর্মকর্তা মো. শরীফ উদ্দিনের “বদলির আদেশ” স্থগিতঃ আতঙ্কিত অপরাধীদের উপর মহলে দৌঁড়ঝাপ


প্রকাশের সময় :৩১ জুলাই, ২০২১ ১২:০০ : পূর্বাহ্ণ

আপন কন্ঠ রিপোর্টঃ

অবশেষে কক্সবাজার-চট্টগ্রামের অপরাধীদের মূর্তিমান আতঙ্ক দুদক কর্মকর্তা মো. শরীফ উদ্দিনের “বদলির আদেশ” স্থগিত করেছে মহামান্য হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) হাইকোর্টের বিচারপতি এনায়েতুর রহিম উদ্দিন এর বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

হাইকোর্ট আগামী দুই সপ্তাহের জন্য দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-২ এর উপসহকারী পরিচালক মো. শরীফ উদ্দিন স্বপদে বহাল রাখার আদেশ দেন। এ বিষয়ে পরবর্তীকালে শুনানি করতে ওই আদেশে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী মো. মাজহরুল হক স্বাক্ষরিত হাইকোর্টের একটি আদেশের কপি বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে দুদক কর্মকর্তা মো. শরীফ উদ্দিনের “বদলির আদেশ” স্থগিত হওয়ার খবর কক্সবাজারের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়লে আরামের ঘুম হারাম হয়ে যায় অপরাধীদের। মামলা থেকে রেহাই পেতে উপর মহলের কর্তাবাবুদের ম্যানেজ করার উদ্দেশ্যে দৌঁড়ঝাপ শুরু করেছে তারা।

জানা যায়, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চট্টগ্রাম-২ জেলা সমন্বিত কার্যালয়, চট্টগ্রাম-২ এর উপসহকারী পরিচালক মো. শরীফ উদ্দিন। অর্থের বিনিময়ে রোহিঙ্গাদের ভোটার ও কক্সবাজারের বড় বড় মেগা প্রকল্পের দুর্নীতি ধরিয়ে রাঘলবোয়াল গ্রেপ্তারের মাধ্যমে আলোচনায় আসেন দুদকের এই কর্মকর্তা।তার তদন্তে ধরা পড়ে প্রশাসনের কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক ও দালাল।

সর্বশেষ চলতি বছরের ৭ জুন কক্সবাজারের এক সাবেক চেয়ারম্যান এর কাছ থেকে সনদ পাওয়া ১৩ রোহিঙ্গার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন তিনি। এ মামলায় অভিযুক্ত করা হয় কক্সবাজার জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাসহ জেলার বিশেষ শাখার তিন পুলিশ পরিদর্শককে।

কিন্তু মামলা দায়ের হওয়ার পরই ১৬ জুন দুদকের প্রধান কার্যালয়ের এক চিঠিতে কক্সবাজার-চট্টগ্রামের কার্যক্রম থামাতে হয়েছে তাকে। ওই চিঠিতে তাকে পটুয়াখালী জেলা কার্যালয়ে বদলি করা হয়।

এ নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া। ২৬ জুলাইয়ের এ প্রতিবেদনটি সচেতন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। সাহসী এই দুদক কর্মকর্তার বদলিতে ক্ষোভ জানিয়ে  বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠে।

কেউ কেউ বলছেন, দুর্নীতিবিরোধী বড় বড় অভিযান চলাকালে হঠাৎ তার বদলির আদেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কয়েকজন কর্মকর্তার বদলির পাশাপাশি তাকেও চট্টগ্রাম থেকে বদলি করা হয়েছে। যদিও দুদক কর্মকর্তারা বলছেন, এটি তাদের নিয়মিত বদলির অংশ।

এদিকে শরীফের বদলীর কারণে দেশের ১ম সারির সব প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়াতে টানা সংবাদ প্রচারিত হলেও কর্তৃপক্ষ তাদের সিন্ধান্তে অনড় থাকায় কক্সবাজারের জাগ্রত সমাজের পক্ষে ফজলে আজিম মোহাম্মদ ছিবগাতুল্লাহ নামের এক ব্যক্তি শরীফকে স্ব-পদে বহাল রাখতে গত ২১ জুন দুদক চেয়ারম্যান বরাবরে লিখিত আবেদন জানান। উক্ত আবেদনে বর্ণিত দুইটি তদন্তের ফাইনাল রিপোর্ট দেওয়া সাপেক্ষে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে সময় প্রদানের জন্য আবেদন করা হয়। কিন্তু তাতেও টনক না নড়ায় তিনি মহামান্য হাইকোর্টে রীট  (রীট পিটিশন নং-৫৯০২/২০২১) দায়ের করেন। যা এখন আপীল বিভাগে পিটিশন নং-৩২২/২০২১ মূলে বিচারাধীন।

বিচারাধীন কোন মামলায় বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষ কর্তৃক কোন প্রকার সিন্ধান্ত প্রদান করা যায়না। এছাড়া, সুপ্রীম কোর্টের রেফারেন্স নং-১৯৯৭ এস.সি.সি. (এল এন্ড এস) ১৪৩৭, (১৯৯৭) ৬ এস.সি.সি. ১৬৯, ৯৯৭ ভলিয়ম. ৩৬ এ উল্লেখ রয়েছে, সৎ কর্মকর্তাকে অযথা বদলী অবৈধ। আরো রয়েছে, রেফারেন্স ৩৬ এটিসি ২০৯ এ শাস্তি হিসেবে বদলী অবৈধ।

অন্যদিকে আর্ন্তজাতিক হিউমান রাইটস, চকরিয়া, কক্সবাজার এর সভাপতি শহীদুল ইসলাম লিটন দুদক, চেয়ারম্যান এর নিকট ১৮/০৭/২০২১ তারিখে বর্ণিত বিষয়টি উল্লেখ করে স্পর্শকাতর ও আলোচিত ভূমি অধিগ্রহণ, রোহিঙ্গা এনআইডি ও পাসপোর্ট মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রদানের জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তা শরীফকে সময় প্রদানের আবেদন করেন। কিন্তু তাতেও কর্তৃপক্ষ সময় না দেওয়ায় তিনিও মহামান্য হাইকোর্টে রীট পিটিশন নং-১০৩/২০২১ দায়ের করেন। ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে শরীফকে ২ সপ্তাহের জন্য চট্টগ্রাম-২ এ স্বপদে বহাল রেখে পরবর্তীকালে হিয়ারিংসহ আদেশের জন্য বহাল রাখা হয়।

জানা যায়, কক্সবাজার মেগা প্রকল্প নিয়ে ৩.৫ লক্ষ কোটি টাকার ভূমি অধিগ্রহণের তদন্ত। উক্ত তদন্তে অদ্যাবধি ১৪ জন আসামীকে আটক করা হয়। তারমধ্যে ৫ জন আসামী ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করে। যেখানে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ রাজনৈতিক নেতা, আইনজীবী, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন ব্যক্তির নাম উঠে আসে। তদন্তের শেষ মুহূর্তে ১৬৪ ধারায় আগত প্রশাসন ও পুলিশ ক্যাডারের ২১ জন কর্মকর্তাকে মামলার বিষয়ে বক্তব্য প্রদানের জন্য নোটিশ প্রেরণ করা হয়েছে। কিন্তু তারা তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকটে না এসে দুদক, প্রধান কার্যালয়ের প্রশাসন ক্যাডার হতে ডেপুটেশনে আসা পরিচালক, মহাপরিচালক ও সচিবরা মিলে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে বিভিন্নভাবে প্রেসার দিতে থাকে।

 

এরই মধ্যে ২১ জনের আদেশের মধ্যে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে ইনটেনশনালি রুটিন বদলীর আড়ালে পটুয়াখালীতে বদলী করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ওই মামলায় তিনটি (০৩) প্রকল্পের বিষয়ে পৃথক পৃথকভাবে ০৩ (তিন) টি তদন্ত প্রতিবেদনে প্রায় ৮৬ কোটি টাকা আত্মসাতের বিষয়ে ৬০০ পাতারও অধিক প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। যেখানে ১৫৫ জনকে আসামী করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। মামলায় কক্সবাজারে বিভিন্ন সময়ে কর্মরত ২৮ জন আমলার জড়িত থাকার প্রমাণাদি পাওয়া গেছে।

মুলতঃ এই মামলার কারণেই তাকে বদলী করা হয়েছে। এই মামলায় রাঘব বোয়ালেরা জড়িত। এটি কক্সবাজারের সাধারণ জমির মালিক থেকে শুরু করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মেগা প্রকল্পের দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনগণের প্রত্যাশীত প্রতিবেদন।

৩টি তদন্ত প্রতিবেদনের মধ্যে প্রশাসন ক্যাডারের ২৪ জন, পুলিশ ক্যাডারের ৪ জন, সার্ভেয়ার ৩০ জন, কানুনগো ১১ জন, তহসিলদার ৬ জন, সাব-রেজিস্ট্রার ২ জন, অতিরিক্ত ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা ৬ জন, ব্যাংকের ৩ জন, রাজনৈতিক নেতা ৭ জন, চেয়ারম্যান ২ জন ও প্রত্যাশী সংস্থা যেমন পৌরসভা, এসপিএম ও পিবিআই এর কর্মকর্তা রয়েছে। এছাড়া দালাল তালিকায় থাকা সম্পদের অনুসন্ধানের জন্য ৯৬ জন দালাল-মিডিয়া যাদের মধ্যে ৫৮ জন পাবলিক, আইনজীবী ৮ জন, সাংবাদিক ৫ জন, রাজনৈতিক নেতা ১৮ জন ও জেলা প্রশাসকের কর্মচারী ৬ জনের নাম প্রতিবেদনে রয়েছে।

এরইমধ্যে কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের ২৫ টি পাসপোর্ট প্রদানের বিপরীতে তিনজন প্রভাবশালী কমিশনার ও পৌরসভার এক কর্মচারীকে তিনি গ্রেফতার করেন। গত ১২ জুন হতে ১৬ জুন পর্যন্ত রোহিঙ্গা এনআইডি ও পাসপোর্ট বিষয়ক ০৪ টি মামলা রুজু করেন। একটি মামলায় আসামীরা হলেন (১) খোরশেদ আলম, সাবেক সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসার, চট্টগ্রাম; বর্তমানে-পরিচালক, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়, ঢাকা, (২) মাহফুজুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাচন অফিসার, রামু, কক্সবাজার, (৩) রাসেল বড়ুয়া, সাবেক অফিস সহায়ক, সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসারের কার্যালয়, চট্টগ্রাম; বর্তমানে-অফিস সহকারী, উপজেলা নির্বাচন অফিসারের কার্যালয়, পটিয়া, চট্টগ্রাম এবং (৪) মো: মোস্তফা ফারুক, সাবেক টেকনিক্যাল এক্সপার্ট, থানা নির্বাচন অফিসারের কার্যালয়, পাঁচলাইশ, চট্টগ্রাম।

মামলার বিষয়বস্তু এই যে, বর্ণিত আসামীরা একে অন্যের সহায়তায় নিজে অন্যায়ভাবে লাভবান হয়ে এবং অন্যকে অন্যায়ভাবে লাভবান করার অসৎ উদ্দেশ্যে অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহারপূর্বক এবং অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ করে চট্টগ্রাম জেলার ভোটার তালিকা প্রণয়নে ব্যবহৃত উবষষ খধঃরঃঁফব ৬৩০, Dell Latitude 630, Service Tag Number-GYSPSIS – 4214 ব্রান্ডের ল্যাপটপটি আত্মসাতপূর্বক উক্ত ল্যাপটপসহ কয়েকটি ল্যাপটপ ব্যবহার করে রোহিঙ্গাসহ ৫৫,৩১০ জনকে অবৈধভাবে ভোটার তালিকাভুক্ত করে দন্ডবিধি’র ২০১/৪০৯/১০৯ ধারা তৎসহ ১৯৪৭ সনের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।

একইভাবে রোহিঙ্গা নারী লাকীসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা, রোহিঙ্গা নারী ওহিদাকে এনআইডি, পাসপোর্ট দেওয়ায় ০৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা, রোহিঙ্গা ডাকাত ফয়াজ উল্লাহসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা, রোহিঙ্গা ডাকাত নুরু আলমসহ ০৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা এবং সর্বশেষ বদলীর দিনেই রোহিঙ্গা তৈয়ব জালালের পরিবারের ১০ জন পাসপোর্ট পাওয়া সংক্রান্তে ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন তিনি। যেখানে ৩ জন পুলিশ পরিদর্শকসহ একজন অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা রয়েছে। যা সারাদেশে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। উক্ত দিনেই মামলার বাদী মো: শরীফ উদ্দিনকে চট্টগ্রাম-২ হতে পটুয়াখালীতে বদলি করা হয়। তার স্থানে চট্টগ্রাম-১ হতে এর আরেক কর্মকর্তাকে আনা হয়।

দুদক কর্তৃক রুটিন বদলী বলা হলেও উক্ত কর্মকর্তাসহ চট্টগ্রাম ও সারা বাংলাদেশে অনেক কর্মকর্তারই একই স্টেশনে চাকরিকাল ৩ বছর অতিক্রম করা হলেও তাদের কাউকে বদলী না করে সুকৌশলে শরীফকে বদলী করা হয়েছে, তাও লকডাউনকালীন। এমনকি ডেপুটেশনে আসা অনেক কর্মকর্তাদেরও ৩ বছরের অধিক হয়েছে। দুদকই দাবী করছে শরীফ ভালো কাজ করছে। শরীফ ভালো কাজ করলে তাকে তো মূল্যায়িত করার কথা। কিন্তু জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার মতো রোহিঙ্গা এনআইডি ও পাসপোর্ট বিষয়ের খুটিনাটি বিষয়ে শুরু থেকে শরীফই ছিলেন।

জানা যায়, টেকনাফ, বান্দরবান, চট্টগ্রাম এর বিশেষ এলাকায় রোহিঙ্গাদের নিয়ে তিনি কাজ করেছেন। অন্যদিকে, রোহিঙ্গা এনআইডি ও পাসপোর্টের বিষয়ে তিনি ১০ টি মামলার বাদী ও আরো ১০ টি অভিযোগের অনুসন্ধানকারী। এর বাইরেও আরো ১০ টি অভিযোগের, যা চট্টগ্রাম, বান্দরবান ও কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার রোহিঙ্গা এনআইডি, স্মার্ট কার্ড, ভোটার তালিকায় অর্ন্তভূক্তিকরণ ও পাসপোর্ট প্রাপ্তির বিষয়ে অনুসন্ধান প্রায় শেষ পর্যায়ে, যদি সে বদলী হয়ে যায় সেগুলো হয়ত আলোর মুখ দেখবে না। এটি রাষ্ট্রীয় স্বার্থ। এছাড়া তার রুজু কৃত মামলার মধ্যে প্রায় লক্ষাধিক রোহিঙ্গা এনআইডি কার্ড পেয়েছেন মর্মে মামলা রুজু করা হয়েছে, যা একমাত্র তারই অনুসন্ধানকৃত। উক্ত মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম শেষ করে কত সংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশী এনআইডি সৃজন করে ভোটার তালিকায় অর্ন্তভূক্ত হয়েছেন, তা রাষ্ট্রীয় স্বার্থে বের করা অতীব জরুরি।

এছাড়া, কক্সবাজারের রোহিঙ্গা পাসপোর্ট মামলায় আরো ৩০,০০০ (ত্রিশ হাজার) রোহিঙ্গা পাসপোর্ট পেয়েছেন মর্মে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে। উক্ত মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম শেষ করে কত সংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশী পাসপোর্ট পেয়ে বিদেশে রয়েছেন, তা রাষ্ট্রীয় স্বার্থে বের করা অতীব জরুরি।

 

এদিকে দুদক কর্মকর্তার ওই বদলী মেনে নিতে পারেনি কক্সবাজাররের সাধারণ মানুষ। তারা মানববন্ধন সভা-সমাবেশ, প্রতিবাদ করেছিলো। যেগুলো জাতীয় গণমাধ্যমে এসেছে। সামাজিক সংগঠনগুলো উচ্চ আদালতে দ্বারস্থও হয়েছে নিরপেক্ষ তদন্তে অপরাধীদের মুখোশ উন্মোচন করতে।  উল্লেখ্য, শরীফের বদলীর কারণে আবারও কক্সবাজারে এল এ শাখার দালালে ভরপুর হয়ে উঠেছে। ইয়াবা ব্যবসায়ী ও নদী দখলদারগণ সক্রিয় হয়ে উঠেছে। চট্টগ্রামে স্বাস্থ্য খাতে মাফিয়ারা সক্রিয় হয়ে উঠেছে। গ্যাস সিন্ডিকেট খুশিতে আত্মহারা। বাদ নেই রেলওয়ের দুর্নীতিবাজেরা।

এদিকে উচ্চ আদালত দুদক কর্মকর্তা মো. শরীফ উদ্দিনের “বদলির আদেশ” স্থগিত করায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন কক্সবাজারের শান্তিকামী জনসাধারন।

 

ট্যাগ :