কক্সবাজার, বৃহস্পতিবার, ৫ আগস্ট ২০২১

শিরোনাম

রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট পেতে সহায়তা করে তিন পুলিশসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা


প্রকাশের সময় :১৯ জুন, ২০২১ ১:৪৪ : অপরাহ্ণ
চট্টগ্রাম প্রতি‌বেদক
১৩ রোহিঙ্গাকে কক্সবাজারের বাসিন্দা বলে সত্যায়িত করায় কক্সবাজারের ৩ পুলিশ পরিদর্শক, ১ নির্বাচন কর্মকর্তাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ৩ পুলিশ সদস্য, ১ নির্বাচন কর্মকর্তা ও ১৩ রোহিঙ্গা নাগরিক।
বৃহস্পতিবার বিকেলে দুদক জেলা কার্যালয়-২ এ মামলাটি দায়ের করেন দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-২ এর উপ সহকারী পরিচালক মো. শরীফ উদ্দিন।
আসামিরা হলেন— পটুয়াখালী জেলা পুলিশ কন্ট্রোল পরিদর্শক এস এম মিজানুর রহমান, নোয়াখালী বেগমগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রুহুল আমিন, রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের পরিদর্শক প্রভাষ চন্দ্র ধর, কুমিল্লার অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোজাম্মেল হোসেন এবং কক্সবাজার সদরের ইসলামাবাদ ইউনিয়নের বাসিন্দা পরিচয় দিয়ে পাসপোর্ট নেওয়া ১৩ রোহিঙ্গা হলেন মো. তৈয়ব (কথিত সাংবাদিক), মো. ওয়াহেদ, মো. ইয়াহিয়া, মো. রহিম, আবদুর রহমান, নুর হাবিবা, আমানুর রহিম, আসমাউল হুসনা, আমানুর রহমান, নুর হামিদা, মো. ওসামা, নুরুল আলম ও আবদুর সাকুর। আসামিদের মধ্যে তিন পুলিশ ঘটনার সময় কক্সবাজার জেলা পুলিশের বিশেষ শাখায় পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। আর নির্বাচন কর্মকর্তাও কক্সবাজারে তখন কর্মরত ছিলেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, কক্সবাজার জেলা সদর উপজেলার ইসলামাবাদ এলাকাটি রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকা। সেখানে রোহিঙ্গারা সরকারি খাস জমি, বন বিভাগের জমি দখল করে বাড়িঘর ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান করেছেন। মামলার আসামি তৈয়বের ১০ ভাই ও ২ বোন। পাঁচ ভাই সৌদি আরবপ্রবাসী। তাঁদের মাধ্যমে ওমরাহ ভিসা নিয়ে অনেক রোহিঙ্গা সেখানে গেছেন। বাংলাদেশের নাগরিক না হয়েও ভুয়া জন্মসনদ, জাতীয়তা সনদ নিয়ে ১৩ রোহিঙ্গা পাসপোর্টের আবেদন করেন। পুলিশ প্রতিবেদনের জন্য এগুলো পাঠানো হলে কক্সবাজার জেলা পুলিশের বিশেষ শাখায় কর্মরত পরিদর্শকেরা যাচাই-বাছাই না করেন, এমনকি সরেজমিন তদন্ত না করে প্রতিবেদন দেন, তাঁরা কক্সবাজারের স্থায়ী বাসিন্দা।
এই প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আসামিরা বাংলাদেশি পাসপোর্ট পান। কক্সবাজারের স্থানীয় এক বাসিন্দা অভিযোগ করেন, রোহিঙ্গারা ভোটার ও পাসপোর্ট নিচ্ছেন। তদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সাবেক নির্বাচন কর্মকর্তা মোজাম্মেল হোসেনকে দায়িত্ব দেওয়া হলেও তিনি বিষয়টি এড়িয়ে প্রতিবেদন দেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কিছুই পাওয়া যায়নি। ২০০৮ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে ২০১৯ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর সময়ের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে।
মামলার এজাহারে আরও বলা হয়ে, ইসলামাবাদ ইউনিয়নের জন্মসনদ বালাম বইয়ের ৩৭১ থেকে ৩৭৪—এই ৪টি পাতা গায়েব হয়ে যায়। পুলিশ ভেরিফিকেশনের সময় সরেজমিন তদন্ত করলে কিংবা স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে বিষয়টি জানা যেত।
মামলার বাদী দুদক চট্টগ্রামের উপসহকারী পরিচালক শরীফ উদ্দিন অনুসন্ধান শুরু করলে পুলিশ ও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে তাঁদের জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্ট বাতিলের সুপারিশ করা হয়।

ট্যাগ :