কক্সবাজার, শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১

শিরোনাম

ঘূর্ণিঝড় ইয়াস আঘাত হেনেছে টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপে


প্রকাশের সময় :২৮ মে, ২০২১ ১২:১২ : পূর্বাহ্ণ

সাইফুদ্দীন মোহাম্মদ মামুন, টেকনাফ

ইয়াসের প্রভাবে জোয়ারের পানি আঘাত হেনেছে টেকনাফ উপজেলার শাহপরীরদ্বীপের বেড়িবাধ জিও ব্যাগ ব্লক স্কুল ভবন ও ঘরবাড়ীসহ কয়েকটি এলাকায়। তৎমধ্যে টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীরদ্বীপ জালিয়া পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২টি ভবন ও কিছু ঘরবাড়ি ইয়াসের প্রভাবে ভেঙ্গে গেছে ও বিলীন হয়ে যাচ্ছে জোয়ারের পানিতে।

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে বৃদ্ধি পাওয়া পানির তোড়ে দুইদিন ধরে বিদ্যালয়ের বেজমেন্টের নিচের মাটি সরে গিয়ে পানি ঢুকে পড়েছে। যেকোনো মুহূর্তে নদীতে চলে যেতে পারে ভবনটি। আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন বিদ্যালয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী। বর্তমানে এই ভবনে প্রথম শ্রেণী থেকে পঞ্চম শ্রেনী পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার শিক্ষার্থী পড়ালেখা করে। বিদ্যালয় দুটি সাগরে বিলীন হয়ে গেলে অনিশ্চিত হয়ে পড়বে হাজারো শিক্ষার্থীর জীবন। ১৯৯১ সালে সৃষ্ট প্রবল শক্তিসম্পন্ন ঘূর্নিঝড়ের আঘাতে সারাদেশে ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষ মারা যাওয়ার পর এই অঞ্চলের মানুষের আশ্রয়ের জন্য ১৯৯৩ সালে সৌদি আর্থিক অনুদানে তিনতলা বিশিষ্ট সাইক্লোন শেল্টারটি নির্মান করে বাংলাদেশ সরকার।

বর্তমানে এই ভবনে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেনী পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার শিক্ষার্থী পড়ালেখা করে। এই বিদ্যালয়ে পড়ুয়া ইয়াছিন নামের চতুর্থ শ্রেণীর এক শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের এলাকার একটি মাত্র বিদ্যালয় এটি। তিন কিলোমিটার এলাকা জুড়ে আর কোন বিদ্যালয় নেই। এছাড়াও নিয়মিত জোয়ারের পানি আঘাত করে এ বিদ্যালয়টিকে। এই বিদ্যালয়টি নদীর বুকে বিলীন হয়ে গেলে আমাদের পড়ালেখার ব্যাঘাত ঘটবে। পড়ালেখা করতে হলে তিন কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা পায়ে হেঁটে অন্য এলাকার বিদ্যালয়ে গিয়ে পড়তে হবে। বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মোহাম্মদ আলম বলেন, আমরা নদীর পাড়ে অনিরাপদে থাকি। ঘূর্ণিঝড় ও জোয়ারের পানির হাত থেকে রক্ষার জন্য আমাদের একমাত্র নিরাপদ আশ্রয় হলো জালিয়া পাড়া সাইক্লোন শেল্টার। ঘূর্ণিঝড়ের সময় মাইকিং করলে আমরা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সাইক্লোন শেল্টারে গিয়ে আশ্রয় নিই। আবার বিপদ কেটে গেলে বাড়ি চলে আসি।

গত এক বছর ধরে এই আশ্রয় কেন্দ্রটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় উঠতে ভয় হয়। কারন কখন যে সেটি ভেঙ্গে মানুষের মাথায় পড়ে। অন্যদিকে বিদ্যালয়ের আশেপাশে জালিয়া পাড়ায় শ’খানেক মত বাড়ীঘর ভেঙ্গে গেছে, গাছপালা ভেঙ্গে পানিতে বিলীন হয়েছে বলে তারা জানায়। এইরকম হালিমা খাতুন বলেন, ইয়াসের কারণে আমার বাড়ী সাগরে চলে গেছে। আর কিছুই নাই। খোলা আকাশেই থাকতেছি। টেকনাফের রেডিও নাফ ৯৯.২ এফএম সরেজমিনে আমাদের খোজখবর নিতে আসায় আমরা রেডিও নাফ একলাব কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। ওনাদের মাধ্যমে সকলের কাছে আমাদের আবেদন যাতে ঘরটা মেরামত করাসহ আমাদের আরও কিছু সহযোগিতা করে। অন্যদিকে ঘোলার চড়ের বাসিন্দা

আব্দুল হক বলেন, ইয়াসের কারনে ঘরবাড়ী ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেছে। আমরা ক্ষতিগ্রস্থ সকলকে সহযোগীতা করার জন্য রেডিও নাফের মাধ্যমে মাননীয় সাংসদ, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ সকলের কাছে আবেদন জানাচ্ছি। মিস্ত্রী পাড়ায় পানির প্রভাব থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য দেওয়া জিও ব্যাগ ও পাথরের ব্লকে ইয়াসের প্রভাবে খুবই ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আমিন বলেন, ইয়াসের প্রভাবে ধ্বসে গেছে ব্লক ও ফেটে ভেসে গিয়ে নস্ট হয়ে যাচ্ছে জিও ব্যাগ। যা দ্রুত সমাধানের ব্যবস্থা না করলে বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যাবে শাহপরীরদ্বীপবাসীর। সাবরাং ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার ফজলুল হক বলেন, শাহপরীরদ্বীপ জালিয়া পাড়া এলাকায় বসবাসরত ১০ হাজার মানুষের একমাত্র আশ্রয়কেন্দ্র এবং এক হাজার শিক্ষার্থীর পাঠদানের জন্য একমাত্র ভবন ২টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এমতাবস্থায় এই ভবন রক্ষার উদ্যোগ গ্রহন না নিলে অনতিবিলম্বে ভবন ২টি নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। এতে একদিকে এলাকার ছেলেমেয়েদের পড়ালেখার ব্যাঘাত ঘটবে, অন্যদিকে বর্ষায় উপকূলীয় মানুষ আশ্রয়ণ ঝুঁকিতে থাকবে। পাশাপাশি ইয়াসের প্রভাবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বিদ্যালয়, আশ্রয়ণসহ অনেক ঘরবাড়ীর।

সব মিলিয়ে ক্ষতিগ্রস্থদের সহযোগিতা করার জন্য আমি পরিদর্শন করতে আসা রেডিও নাফ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রশাসনের কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছি। অন্যদিকে হুমকির মুখে রয়েছে একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন। সেখানে ইয়াসের প্রভাবে জেটি ভাঙ্গন, হোটেল জলতরঙ্গসহ কয়েকটি হোটেলের পার্শ্বে ভাঙ্গন হয়ে কয়েকটি এলাকারও কিছু অংশ বিলীন হয়ে গেছে বলে জানা যায়। সেন্টমার্টিনের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান নুর আহমদ। সর্বোপরি জানতে চাইলে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পারভেজ চৌধুরী বলেন, শাহপরীরদ্বীপের এই সাইক্লোন শেল্টারটি রক্ষার জন্য একটি প্রকল্প গৃহীত হয়েছে। যা খুব শীগ্রই বাস্তবায়ন করা হবে।

পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্থদের সহযোগিতা করার জন্য তালিকা তৈরী করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে বলে রেডিও নাফকে জানান ইউএনও পারভেজ চৌধুরী।

ট্যাগ :