কক্সবাজার, সোমবার, ১২ এপ্রিল ২০২১

মাতারবাড়ীতে_বেড়িবাঁধ অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে বিপর্যস্ত জনজীবন


প্রকাশের সময় :২ এপ্রিল, ২০২১ ১:০৭ : পূর্বাহ্ণ
কাইমুল ইসলাম ছোটন
মহেশখালীর মাতারবাড়ীতে বেড়িবাঁধ এলাকায়  জোয়ারের পানি অস্বাভাবিক বেড়ে কয়েকটি গ্রামে ডুকে পড়েছে। এতে মানুষের দোকানসহ বসতভিটায় পানি ডুকে পড়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সাইরারডেইলের কয়েকটি গ্রামের মানুষের জনজীবন। জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে ৩-৪ ফুট বৃদ্ধি পাওয়ায় বেড়িবাঁধের ভাঙা অংশ ও জিওব্যাগের উপর দিয়ে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে। এর পরও দীর্ঘদিন ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধ সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করে নি কেউ।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বুধবার দুপুর ১২ টার দিকে অস্বাভাবিক জোয়ারের পানি বেড়ে যাওয়ায় বেড়িবাঁধের ভাঙ্গা অংশ ও নিচু জিওব্যাগের উপর দিয়ে জোয়ারের পানি লোকালয়ে প্রবেশ করছে। জেলে পাড়াসহ কয়েকটি গ্রামে মানুষের বসতভিটা ও ব্যবসায়ীদের দোকানে পানি ডুকে পড়ছে। এতে মানুষ তাদের ঘরবাড়ির গুরত্বপূর্ণ জিনিসপত্র ও দোকানের মালামাল অন্যত্র সরিয়ে ফেলছে।
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, বায়ুচাপের তারতম্য ও বাতাসের গতিবেগ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে এমনটা ঘটেছে। এটার জন্য কোন ঝড়-বৃষ্টি হবে না এবং কয়েকদিনের মধ্যে ঠিক হয়ে যাবে।
দীর্ঘদিন বেড়িবাঁধ সংস্কার না হওয়ায় যে কোন মুহূর্তে জোয়ারের পানি ডুকে গ্রামের পর গ্রাম প্লাবিত হতে পারে এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাছাড়া পূর্বে অর্ধশত ঘরবাড়ি বিলুপ্ত হওয়ার কথা ও তারা জানান।
ব্যবসায়ী আমির হোসেন জানান, বেড়িবাঁধ না থাকার কারণে এমনটা হচ্ছে। ফলে পানি দোকানে ডুকে মালামালসহ অনেক ক্ষতি হয়েছে।
স্থানীয় হাসিনা বেগম বলেন, পূর্বে অনেক ঘরবাড়ি বিলুপ্ত হয়ে গেছে। জোয়ারের পানিতে ডুবে থাকে শেষ আশ্রয়টুকু। জোয়ারের পানি বাড়লে পরিবারগুলোর চোখের ঘুম হারাম হয়ে যায়।
সহকারী অধ্যাপক সেলিম কুতুব উদ্দীন নেওয়াজ বলেন, বেড়িবাঁধ দীর্ঘদিন সংস্কার করা হয় নি। ফলে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেলে ঘরের ভেতর ঢুকে পড়ে।
তিনি আরো বলেন, দ্রুত সংস্কারের জন্য গণস্বাক্ষর নিয়ে ঢাকায় যাব। কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে বেড়িবাঁধ সংস্কারের ব্যবস্থা করব।
স্থানীয় মেম্বার আবদুল হামিদ জানান, জোয়ারের পানি বেড়ে যাওয়ার কারণে জেলে পাড়ায় পানি ডুকে পড়েছে। ফলে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয়রা। দ্রুত বেড়িবাঁধের ব্যবস্থা করার জন্য তিনি দাবি জানান।
মহেশখালী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান বলেন, আমরা খবর পেয়েছি। সেখানে দ্রুত ত্রাণ পাঠানোর জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।

ট্যাগ :