কক্সবাজার, বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২১

সদর উপজেলার ইছাখালী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষমতাধর প্রধান শিক্ষিকার তান্ডব টাকা ছাড়া মিলছে না নতুন বই, ভর্তি ফরমের নামে টাকা আদায়


প্রকাশের সময় :৬ জানুয়ারি, ২০২১ ৫:২৩ : অপরাহ্ণ

আপন ডেস্ক:

কক্সবাজারের সদর উপজেলার ঈদগাঁও ইসলামাবাদ এলাকার সাতজুলাকাটা ইছাখালী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে ভর্তি ফি’র নামে প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে জোর করে টাকা আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, টাকা ছাড়া দেয়া হচ্ছে না সরকারী বিনামুল্যের বইও। এই ব্যাপারে ইছাখালী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সালমা ফেরদৌসের বিরুদ্ধে মানববন্ধনসহ উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানান উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, করোনাকালীন পরিস্থিতিতে সরকারী সিদ্ধান্ত মোতাবেক বার্ষিক সমাপনীর পর শিক্ষার্থীরা নতুন ক্লাসে উঠবে। এছাড়া সরকারী প্রথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি বা নতুন ক্লাসে পুন:ভর্তির নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা-পয়সা আদায় করা সম্পুর্ন অবৈধ হলেও নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে ইছাখালী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সালমা ফেরদৌস টাকা হাতিয়ে নেয়ার কৌশল হিসেবে একটি ভর্তি ফরম তৈরী করেন। আর নিময় করে দেন, যারা ১০০টাকা দিয়ে ফরম পুরণ করবে কেবল তারাই পরবর্তী ক্লাসে ভর্তির সুযোগ পাবে এবং নতুন বই পাবে। যেসমস্ত শিক্ষার্থী প্রধান শিক্ষিকার এই নিয়ম মেনে ১০০ টাকা দিয়ে ফরম পুরন করবেনা তাদেরকে দেয়া হচ্ছেনা সরকার কর্তৃক সরবরাহকৃত বিনা মূল্যের নতুন বই।

নির্ভরযোগ্য সুত্রে জানা যায়, ইছাখালী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সালমা ফেরদৌসের সাথে জড়িত রয়েছেন খোদ কক্সবাজার সদর উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার বেলাল হোসেন। এই দুই জনের যোগ সাজসে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা বিপুল পরিমানের টাকা ভাগ-ভাটোয়ারা করা হয়।

এই বিষয় নিয়ে অভিভাবক মহলে মারাত্মক ক্ষোভ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্ঠি হলেও সন্তানের নিরাপত্তার কথা ভেবে অনেকেই মুখ বুজে সহ্য করছেন প্রধান শিক্ষিকার নানা ধরনের অত্যাচার অবিচার। শুধু তাই নয়, অভিভাবকরা অভিযোগ করেন- কোন অনিয়মের বিষয়ে অভিযোগ করতে গেলে অকথ্য-অশ্লিল ভাষায় গালি-গালাজসহ প্রচন্ড দুর্ব্যবহার করেন এই ক্ষমতাধর প্রধান শিক্ষিকা।

স্থানীয়রা জানান, প্রধান শিক্ষিকা সালমা ফেরদৌস এই স্কুলে যুক্ত হওয়ার পর থেকে কোন ধরনের নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে ইচ্ছেমত বিদ্যালয় পরিচালনা করে আসছেন। অভিভাবকদের সমন্বয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি থাকলেও সেই কমিটির সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে নিজের নিয়মেই পরিচালিত করেন স্কুলটি। একক নিয়ন্ত্রনে নেয়ার পর থেকে প্রতিবছর বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ নানা ধরনের পরিচালন বিল দেখিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাত করার অভিযোগও রয়েছে এই প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে।

অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, বিগত বছরের জুলাই মাসে বিদ্যালয়ের ২টি ওয়াশ ব্লক সংস্কারের নামে (প্রতিটি ২০ হাজার)সরকারী ফান্ড থেকে ৪০ হাজার টাকা তুললেও কোন ধরনের সংস্কারকাজ না করে একাই আত্মসাত করেন এই ক্ষমতাধর প্রধান শিক্ষিকা।

এই বিষয়ে জানতে ইছাখালী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সালমা ফেরদৌস এর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন-“ভর্তি ফি সব স্কুলে নেয়া হচ্ছে আমিও নিচ্ছি। আপনাদের কি সমস্যা। শুধু আমাদের বিরুদ্ধে কেন সাংবাদিকরা বাড়াবাড়ি শুরু করেছেন..?” নতুন বই বিতরনে ও ভর্তি ফি’র নামে ১০০টাকা করে যেসব টাকা নেয়া হচ্ছে এগুলো সরকারী সিদ্ধান্তে, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্তে নাকি আপনার (প্রধান শিক্ষিকা) সিদ্ধান্তে নেয়া হচ্ছে..? এমন প্রশ্নের উত্তরে যথাযথ কোন উত্তর না দিয়ে প্রধান শিক্ষিকা সালমা ফেরদৌস অসংযত ভাবে প্রচন্ড উত্তেজিত হয়ে সাংবাদিকদের বিষয়ে হুমকী স্বরূপ বাজে মন্তব্য করেন এবং তার অফিসে গিয়ে দেখা করতে বলে সংযোগ বিচ্ছন্ন করে দেন (মুঠোফোনে কথা বলার রেকর্ড আপন কন্ঠ অফিসে সংরক্ষিত রয়েছে)।

এই বিষয়ে জানতে ইছাখালী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি সৈয়দ নুর এর সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান-“ভর্তি ফি হিসেবে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে, এমন কথা আমি শুনেছি। তবে এই ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক বা অন্য কারো সাথে কোন আলোচনা হয়নি। কারা কারা এই ঘটনায় জড়িত রয়েছে আমি জানিনা।”

এই বিষয়ে কক্সবাজার সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো: নুরুল আমিন দৈনিক আপন কন্ঠ’কে বলেন-কোন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বই বিতরন বা ভর্তি ফি আদায় করার নিয়ম নেই। এই ব্যপারে তদন্তপূর্বক দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।