কক্সবাজার, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২০

উখিয়ায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চাষী জমিতে ঘর নির্মানের-অভিযোগ


প্রকাশের সময় :২১ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ৪:৪৬ : অপরাহ্ণ

বার্তা পরিবেশক:

উখিয়ায় থাইংখালীতে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জমি দখল করে চাষী জমিতে ঘর নির্মানের অপেচষ্টা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর), প্রতিবেদক স্বরজমিনে ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে গেলে, স্থানীয় এলাকার মাণ্যগণ্য ব্যক্তিসহ অনেকেই তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন৷

এর প্রতিকার চেয়ে আদালতের শরণাপন্ন হন প্রকৃত জায়গার মালিকগণ।

জমির মালিকগণের আবেদনের প্রেক্ষিতে স্থিতিতাবস্থা বজায় রাখতে নির্দেশ দেয় আদালত।

যার স্বারক নং-১০৪,আদেশ নং-৩৩৷

জৈনক এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, আদালতের নিষেধাজ্ঞা না মেনে অন্যায়ভাবে জায়গা/জমিটি দখল করে বাড়ি নির্মাণের অপচেষ্টা চালিয়ে আসছে মোস্তাক অহমদ।

এর জন্য শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

নোটিশ অমান্য করে জমিটি দখল করে ঘর নির্মাণের চেষ্টা আদালত অবমাননার শামিল।

এ ব্যাপারে পালংখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম.গফুর উদ্দিন চৌধুরীর সাথে মোঠফোনে যোগাযোগ করা হলে, তিনি এ প্রতিবেদক কে জানান, ঘর নির্মাণ করা মোস্তাকের বিরুদ্ধে অামার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন ভূক্তভোগীরা৷

অভিযোগের মধ্যে রয়েছে, প্রবাসীদের টাকা আত্মসাত এবং কৃষি জমিতে ঘর নির্মাণ৷

এম.গফুর উদ্দিন চৌধুরী আরো জানান, অভিযোগ পাওয়ার তৎক্ষাণিক ঘর নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে৷

উল্লেখ্য যে, মোস্তাক কর্তৃক প্রবাসীদরে ১০ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ও পাওয়া গেছে৷

সৌদি আরবের রেমিট্যান্স যুদ্ধাদের রক্তঘাম ঝরানো টাকা নিয়ে নিজের নামে জমি ক্রয় করে অভিযুক্ত মোস্তাক প্রকাশ লাল মোস্তাক ইতোমধ্যে বিলাস বহুল ভবন নির্মাণ কাজ চালাচ্ছে।

এ ব্যাপারে সৌদি আরবস্থ থাইংখালীর প্রবাসীরা উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, পালংখালী ইউপি চেয়ারম্যান বরাবরে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, সৌদি আরবের শিল্পনগরী জেদ্দায় উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের থাইংখালীর প্রবাসীদের নিয়ে “সাউথ ওশান প্রবাসী কল্যাণ সংস্থা থাইংখালী (সপওয়াথ) নামক প্রবাসী সংগঠনের সদস্য থাইংখালীর রহমতের বিল এলাকার ছৈয়দ আলম আরকানীর পুত্র সাবেক প্রবাসী সদস্য মোস্তাক আহমদ গত ৯ মাস পূর্বে সৌদি আরব থেকে দেশে বেড়াতে আসে।

প্রবাসী সংগঠনের সদস্যরা টেকনাফ-কক্সবাজার তথা আরকান সড়কের নিকটে দেশে বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে ২০ শতক জমি নেয়ার জন্য উক্ত মোস্তাক কে দায়িত্ব দেয়।

সংগঠনের ক্যাশিয়ারের দায়িত্বে থাকার সুবাধে তার কাছে রক্ষিত প্রবাসীদের আমানতের ১০ লক্ষ টাকা দিয়ে সংগঠনের নামে জমি রেজিষ্ট্রি করতে প্রথম দফা ১০ লাখ টাকা প্রদান করা হয়। প্রবাসীদের সংগঠনের উক্ত টাকায় দেশে

এসেই প্রতারণার পথ বেচে নেয় মোস্তাক।

খোঁজ নিয়ে আরো জানা যায়, মোস্তাক আহমদ প্রবাসীদরে টাকায় নেয়া জমিতে বিলাস বহুল ভবন নির্মাণ কাজ চালাচ্ছে পুরোদমে।

দেশের আইনের প্রতি তোয়াক্কা না করে অবৈধভাবে পাহাড় কেটে জমি ভরাট করে রোহিঙ্গা শ্রমিক দিয়ে নির্মাণ কাজ চালাচ্ছে।

অভিযোগের বিষয়ে সত্যতা যাচাইয়ের জন্য তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে , তিনি সব বিষয় অস্বীকার করেন৷

এ প্রসঙ্গে জানতে জানতে চাইলে মামলা তদন্তকারি কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক চিম্পু বড়ুয়া জানান, বিষয়টি তদন্ত করে মনে হয়েছে, মোস্তাক থাইংখালীতে যে জায়গাটি ক্রয় করেছে সেটি তাদের প্রবাসি সংগঠনের টাকায় ক্রয় করেছে৷

সংগঠনটির সভাপতি নুর মোহাম্মদ নুর এর সাথে মোঠফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে সৌদি আরবে একাধিবার বৈঠকের কথা স্বীকার করেছে।

ট্যাগ :