কক্সবাজার, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২০

চুলের সমস্যা সমাধানে বিষেশজ্ঞের পরামর্শ:


প্রকাশের সময় :২৫ জুলাই, ২০২০ ৮:৩২ : পূর্বাহ্ণ


লাইফ স্টাইল ডেক্স:
চুলের সব সমস্যা দূর করার জন্য সঠিক যত্ন প্রয়োজন। চুল পড়ার সমস্যা দূর করতে ব্রাহ্মী ও আমলা উপকারী।চুল কম-বেশি সবারই পড়ে। হয়ত কারও কম, কারও বেশি। দিনে ৫০ থেকে ১০০টি চুল পড়া স্বাভাবিক। তবে এর বেশি হলেই চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

আবার চুল পড়া নিয়ে বেশি চিন্তা করলেও চুল পড়ে বেশি।যদি খুব বেশি চুল পড়তে থাকে তাহলে হারবাল উপাদান সমৃদ্ধ হেয়ার অয়েল ও হেয়ারপ্যাক ব্যবহার করা যেতে পারে।ব্রাহ্মীলতার ঔষধি গুণ চুলের জন্য দারুণ উপকারী। ব্রাহ্মী মিশ্রিত তেল ব্যবহারে চুল পড়া কমে। এটি মাথার ত্বককে পুষ্টি যোগায় ও চুলের মৃত কোষে শক্তি জোগায়।

আমলকীতে খুব ভালো পরিমাণে ভিটামিন সি আছে। এই ভিটামিন চুল বাড়তে সাহায্য করে এবং নতুন চুলের জন্ম হয়। তাই ব্রাহ্মীর সঙ্গে আমলা ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।

রুক্ষ-শুষ্ক চুলের যত্নে বাদাম ও অ্যালো ভেরা এই দুইটি উপাদান খুবই উপকারী বলে গবেষণায় প্রমানিত:
যাদের চুল শুষ্ক তাদের তো আছেই, সাধারণ ও তৈলাক্ত চুলের অধিকারীদের মুখেও শুনতে পাওয়া যায় রুক্ষ-শুষ্ক ও নিষ্প্রাণ চুলের সমস্যা।এর কারণ হিসেবে বাইরের দূষণ তো আছেই সেই সঙ্গে রিবন্ডিং, চুলের রং, ব্লিচিং, সস্তা ডাই ও প্রতিনিয়ত আয়রন করাকে দায়ী করা যায়।অতিরিক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার অথবা চুলের জন্য সঠিক শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার ব্যবহার না করার কারণেও চুল রুক্ষ-শুষ্ক হয়ে পড়ে।

বাদাম-তেল একটি প্রাকৃতিক কন্ডিশনার যা আমাদের চুলকে নরম, মসৃণ এবং ময়েশ্চারাইজ করে তোলে। আবার ডিমে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন থাকে যা আমাদের চুলের স্বাস্থ্যের উন্নতি করে গোড়া থেকে।চুলের শুষ্কতা কাটানোর জন্য সপ্তাহে একবার বাদাম-তেল এবং ডিমের হেয়ার প্যাক ব্যবহার করা যেতে পারে।

রুক্ষ চুলকে উজ্জ্বল করতে ব্যবহার করতে পারেন অ্যালো ভেরা জেল।শুষ্ক চুলে আর্দ্রতা ফেরাতে ও চুলের গভীর থেকে কন্ডিশনিং করতে অ্যালো ভেরা ব্যবহার ভালো ফল দেয়।অ্যালো ভেরা চুলকে ময়েশ্চারাইজ করে। ফলে আমাদের চুলের রুক্ষতা এবং শুষ্কতাও দূর হয়। মাথার তালুতে অ্যালো ভেরা ব্যবহার করলে আমাদের চুলের সুরক্ষার প্রলেপ তৈরি করে যা আমাদের চুলের আর্দ্রতা আটকে রাখে।অ্যালো ভেরার সঙ্গে বাদাম ও পাকা-কলার প্যাক চুলের রুক্ষভাব এবং শুষ্কতা দূর করার জন্য আদর্শ।

চুলের আগা ফাটা রোধে মধু ও মেহেদীর ব্যবহার:

শরীরে পানিশূন্যতা হলে তা চুলে প্রভাব ফেলে এবং চুলের আগা ফেটে যায়। চুল কাপড়ের সঙ্গে, বালিশের সঙ্গে ঘষা খেলে চুলের আগা ফেটে যায়। চুলে অতিরিক্ত কেমিক্যাল ব্যবহার (যেমন- কালার, রিবন্ডিং) করলে চুলের আগা ফেটে যায়।

চুলের আগা ফাটা রোধে মধু ও মেহেদী পাতা উপকারী। নিয়মিত মেহেদী পাতা ও মধুর প্যাক ব্যবহারে চুলের আগা ফেটে যাওয়া বন্ধ হয়, গোড়া থেকে মজবুত হয় এবং চুল ভাঙা প্রতিরোধ করে চুলকে মজবুত ও ঘন করে তোলে। মেহেদী পাতা ও মধু প্রাকৃতিক উপাদান হওয়ার কারণে চুলের স্বাভাবিক সৌন্দর্য্য ধরে রাখতে সহায়তা করে।মধু চুলকে ময়েশ্চারাইজ করে ও মেহেদী পাতার কন্ডিশনিং মাথার চুলকে ঘন করে। আর এই দুইয়ের মিশ্রণ চুলের আগা ফাটা রোধে অত্যন্ত কার্যকর। এটি চুলকে করে তোলে মজবুত, ঘন ও সুন্দর।

আমাদের চুলকে মসৃণ এবং নরম করে তুলতে শুধু হেয়ার প্যাক লাগালেই চলবে না। তার জন্য খেতে হবে প্রোটিন যুক্ত খাবার। যেমন- মাছ, গাজর ইত্যাদি।সঙ্গে খাওয়া দরকার বিভিন্ন রকমের ফল, সবুজ সবজি ইত্যাদি।হেয়ারপ্যাকের সঙ্গে এসব খাবার খেলে আমাদের চুলের গোড়ার থেকে চুলের উন্নতি হবে।

ট্যাগ :