কক্সবাজার, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২০

মহেশখালীতে ৫ হাজার ঝাউগাছ নিধন,হুমকির মুখে চরাঞ্চল


প্রকাশের সময় :২৪ জুলাই, ২০২০ ২:৩৮ : অপরাহ্ণ

মোঃআকিব বিন জাকের

কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার ধলঘাটা ইউনিয়নের পশ্চিমে হাঁসের চরে সৃজিত হাজার হাজার ঝাউ গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে দুর্বত্তরা। যার কারণে হুকমির মুখে পড়েছে চরাঞ্চল।

উপকূলীয় বন বিভাগ চট্টগ্রামের গোরকঘাটা রেঞ্জের আওতাধীন মাতারবাড়ী বিটের সংরক্ষিত ধলঘাটা বন ভূমিতে ২০১৪-১৫ সালে বিশ্বব্যাংকের উদ্যোগে এসব গাছ রোপণ করা হয়।

জানা যায়, দারিদ্র বিমোচন, কর্মসংস্থান তৈরি,পরিবেশ উন্নয়ন, ভূমিহীন দরিদ্র জনগনের পুনর্বাসন ও দারিদ্রতা দূরীকরণের লক্ষ্যে ফরেষ্ট বিভাগের সাথে স্থানিয় উপকারভোগিদের অংশী দারিত্বের ভিত্তিতে চুক্তি নামার অনুচ্ছেদে ঝাউ বাগানটি দেখভাল করার দায়িত্ব দিয়েছেন বিশ্বব্যাংক।

রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপকারভোগী কাশেম হিরু বলেন, “অর্থনৈতিক জোন বেজা গ্রুফ থেকে টিকে গ্রুফ লিজ নিয়ে অত্র ইউনিয়নের পাশ্ববর্তী এলাকায় মাটি ভরাটের কাজ শুরু করেছে। তাঁদের ইন্ধনে প্রতিনিয়ত গাছগুলি কেটে সাবাড় করে যাচ্ছে স্থানীয় দুর্বৃত্তরা।এতে আমরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত।
সংশ্লিষ্টদের কাছে এর ক্ষতিপূরণের দাবি জানাচ্ছি।”

তথ‍্যমতে বিভিন্ন প্রলয়ঙ্কারী ঘূর্ণিঝড়সহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে দ্বীপবাসিকে রক্ষাকবচ হিসেবে ব‍্যাপক ভূমিকা পালন করে সৃজিত ঝাউ বাগানটি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার ধলঘাটা ইউনিয়নের হাঁসের চর এলাকায় ছোট-বড় প্রায় ৫ হাজার গাছ কেটে সাবাড় করেছে দুর্বৃত্তরা। এসব স্থানে পড়ে আছে কাটা গাছের গোড়া।যার আনুমানিক মূল্য প্রায় অর্ধকোটি টাকা।

সূত্র আরো জানায়, ঝাউ বাগানটি টেকসই করতে ২০১৪ সালে বৃক্ষরোপণ অভিযানের অংশ হিসেবে হাঁসের চরে হাজার হাজার গাছ রোপণ করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, চরের সবুজ শ্যামল গাছগুলো দিন দিন বড় হতে থাকলে দুর্বৃত্তদের নজরে পড়ে। এখন রাতের অন্ধকারে চরে সৃজিত কোনো না কোনো স্থানে প্রতিদিন গাছ কাটা হচ্ছে। অথচ এ ব্যাপারে কারও কোনো মাথাব্যথা নেই। বন বিভাগের কতিপয় কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ম‍্যানেজ করে দুর্বৃত্তরা এ বৃক্ষ নিধনযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা যায়।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম উপকূলীয় বন বিভাগের মহেশখালী গোরকঘাটা রেঞ্জ কর্মকর্তা হাবিবুল হক জানান, যায়গাটি সরকারি প্রকল্পের কাজে অধিগ্রহণের আওতায় পড়েছে। গাছ কাটা বা না কাটার বিষয়টি আমাদের দেখার বিষয় নয়।

ধলঘাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুল হাসান বলেন, ধলঘাটা হাঁসের চর ঝাউ বাগানের যায়গাটি অধিগ্রহণে পড়ছে মনে করে ক্ষতিপূরন পাওয়ার আশায় উপকারভোগীরা রাতের আধারে গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে।

ট্যাগ :